৬ষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বেশ কয়েকটি বৈঠক। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ইউনূস-মোদি বৈঠক। আসিয়ান সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের এলিটদের সমর্থন চান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয়েছে। একইসঙ্গে, প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটেটিভ ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শিউয়ের বৈঠকে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য চিহ্নিত করার বিষয়টি জানানো হয়।
সব মিলিয়ে এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের অর্জন কতটা তা নিয়ে আলোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে। জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বৈঠক করলেই হবে না—দরকার বাস্তব অগ্রগতি। চুক্তি ও সমঝোতা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিমসটেকের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশে বিমসটেকের প্রধান কার্যালয় থাকাই এখন পর্যন্ত বড় প্রাপ্তি। তবে এটিকে শুধু অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের অংশ না রেখে বাইরের দেশগুলোর সঙ্গেও মেরিটাইম কানেক্টিভিটি বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারত ও থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব রয়েছে। এই দুই বড় দেশের উচিত হবে বিমসটেককে গুরুত্ব দিয়ে অন্তত ৩ থেকে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করা, যেগুলো এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বৈঠককে ফলপ্রসূ করতে উভয়পক্ষের অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ জরুরি বলেও মত বিশ্লেষকদের।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা পরস্পরকে আশ্বস্ত করতে পারে যে কেউ কাউকে ক্ষতি করবে না। তবে আদর্শিক দূরত্ব বেড়েছে। সেই দূরত্ব ঘোচাতে উভয়পক্ষের ভেতর থেকেই কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।